বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া। গত বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী দামেস্কে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কাজ করবে একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি জোট।

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আশ শারার উপস্থিতিতে। সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী মোহাম্মদ আল বশির ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চারটি বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী জানান, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক মানের চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতের ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে।’উক্ত চুক্তিতে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে:—কাতারভিত্তিক ইউ সি সি (UCC) এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান উরবাকন হোল্ডিং কোম্পানি, যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি ও তুরস্কের গ্যালিয়ন এনার্জি কোম্পানি এবং জেংগিজ এনার্জি কোম্পানি।

সমঝোতা অনুযায়ী চারটি কম্বাইন্ড সাইকেল গ্যাস টারবাইন (CCGT) ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে সিরিয়ার দেইর আয-জোর, মুহারদাহ, হামা প্রদেশ ও হোমস প্রদেশ অঞ্চলে। এসব কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।এছাড়াও দক্ষিণ সিরিয়ার ওয়াদিয়ান আর রাবি এলাকায় ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে আধুনিক আমেরিকান ও ইউরোপীয় প্রযুক্তি।

উরবাকন হোল্ডিং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী রমেজ আল খায়াত বলেন, ‘এই চুক্তি শুধু একটি ব্যবসায়িক পদক্ষেপ নয়, বরং সিরিয়াকে পুনর্গঠনের একটি বড় অংশ। আমরা চাচ্ছি সিরিয়াকে স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে।’

তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ৫০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২.৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।অন্যদিকে সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন দূত থমাস বারাক বলেন, ‘এই মুহূর্তটি সিরিয়ার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন এই পুনর্গঠনের উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’এদিন সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় চারটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে অংশীদার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হলো।

বহু বছরের সংঘাত ও ধ্বংসের পর সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই চুক্তিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কেবল জ্বালানি খাত নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *