রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস দীর্ঘ পাঁচ মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন —যার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে এক রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

আজ বুধবার ৩০শে এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি আতোয়ার রহমান খান ও বিচারপতি আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে এই জামিন ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—এটা কি ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, নাকি কিছুটা রাজনৈতিক চাপ বা সমঝোতার ফল?

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি ঘটনা।

কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে উগ্র ইসকন অনুসারীরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন জটিল হয়ে পড়ে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে সেই দিনই ঘটে যায় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড—আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যা মামলাও এখনো তদন্তাধীন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নিয়ে একদিকে যেমন তার অনুসারীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, অন্যদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা গুঞ্জন। একজন উচ্চপ্রোফাইল আসামির মুক্তির পেছনে হাইকোর্ট কী বিবেচনায় জামিন দিল, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জামিনে মুক্ত হলেও মামলাটি এখনো চলমান। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার অনুসারীদের সহিংস আচরণ ও আলিফ হত্যাকাণ্ড—সব মিলিয়ে এটি একটি জটিল সামাজিক ও বিচারিক চিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *