সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, কিছু রোহিঙ্গা কিশোর ও তরুণ মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যাদের নির্যাতন করা হয়েছে, তারা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি নৌকায় চড়ার কথা ছিল। কিন্তু যাদের মাধ্যমে এই যাত্রা হওয়ার কথা, সেই মানবপাচারকারীরাই এখন তাদের উপর ভয়ংকর নির্যাতন চালাচ্ছে।

ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এক মানবপাচারকারী একটি চক্রের সদস্য হিসেবে কিছু রোহিঙ্গা তরুণকে পায়ে শিকল পরিয়ে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করছে। এই নির্যাতনের সময় তারা তরুণদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওগুলো মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের আরাকান রাজ্যে ধারণ করা হয়েছে।

ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, নির্যাতনকারীদের দাবি—তরুণদের পরিবার ঠিকমতো টাকা দিতে পারেনি, অথবা পাচারকারীরা পূর্বের চুক্তির চেয়ে বেশি টাকা দাবি করছে। এই কারণেই তারা নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে টাকার দাবি জানাচ্ছে।

এক মানবপাচারকারী ভিডিওতে হুমকি দেয়, নির্দিষ্ট অর্থ না পেলে তরুণদের হত্যা করা হবে। এই সময় এক তরুণ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে ফোন করেছি, সে টাকা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় সে আর যোগাযোগ করতে পারছে না।’ আরেকজন বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম দুই-তিন দিনের মধ্যে টাকা আসবে, তাহলে এখনো আমাকে মারছো কেন?’

মানবপাচারকারীরা সাধারণত রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ভিডিও করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে সময়মতো টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। টাকা না পেলেই শুরু হয় এই নিষ্ঠুর নির্যাতন।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রায়শই জীবন ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা অন্য কোনো নিরাপদ দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ, আরাকান রাজ্যে তারা একদিকে সন্ত্রাসী আরাকান আর্মির নির্যাতনের শিকার, অন্যদিকে ২০১৭ সালের গণহত্যার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন এখনও থেমে নেই।

এই রকম মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে তরুণ রোহিঙ্গারা মানবপাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে শিকার হচ্ছেন ভয়াবহ সহিংসতার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *