ভারতের আসাম রাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘অব ইন্ডিয়া’-এর বরাতে জানা গেছে, এই তিনজন বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীদের সহায়তায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা অন্য এক রাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ট্রেন স্টেশনে ছিলেন, সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধৃত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত শরণার্থী ক্যাম্পে গত ৯ বছর ধরে বসবাস করছিলেন। সেখানে কঠিন জীবনযাপনের কারণে তারা কর্মসংস্থান ও ভালো জীবনের আশায় ভারতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তারা প্রত্যেকে পাচারকারীদের হাতে ৪ হাজার টাকা (প্রায় ৩২ মার্কিন ডলার) করে পরিশোধ করেন। পাচারকারীরা তাদের নিরাপদ যাত্রার প্রতিশ্রুতি দিলেও নিজেরাই পালিয়ে যায়।

সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট ৭৯ জন রোহিঙ্গা এবং ৮১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টায় রয়েছে। এজন্য দেশটিতে তাদের শিক্ষা, আবাসন ও অন্যান্য মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে সীমান্তে আটক করা হচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন জেল ও আটককেন্দ্রে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।যেখানে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আনা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থানরত এসব শরণার্থীর অনেকে চরম দারিদ্র্য, সহিংসতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভারতের মতো দেশে পালানোর চেষ্টা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *