উত্তর ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে অন্তত ২২টি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী সানআ’র পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল, লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপ এবং তেলসমৃদ্ধ মারিব প্রদেশের উত্তর ও দক্ষিণ অংশে এসব হামলা চালানো হয়। তবে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোন তথ্য জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমান হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভয়াবহ। বিস্ফোরণের শব্দ দূর-দূরান্ত পর্যন্ত শোনা গেছে। এর আগের দিনও রোববার রাতে সানআ’য় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় চার শিশু নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে হুতিদের লক্ষ্য করে ফের বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজা যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভেঙে পড়ার পর হুতিদের হামলা ঠেকাতেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। হুতিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবেই তারা পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে।

হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া আল মাসিরাহ টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা তেলআবিবে একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জাফা ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, ‘আমাদের নৌ ও বিমান বাহিনী লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধ জাহাজ লক্ষ্য করে একযোগে অভিযান চালিয়েছে। এতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।’

সারেয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের জনগণের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে। তাই এর জবাবে হুতিরা হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অভিযান থামবে না, যতক্ষণ না ইসরায়েল গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *