উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ বছর বয়সী মুসলিম কিশোরী আলিয়া বেগম। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তেলেঙ্গানার জহিরাবাদ এলাকার অন্তারাম গ্রামে এই নির্মম ঘটনা ঘটে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইসমাইল একটি বাড়ির দেয়ালের পাশে প্রস্রাব করায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের অন্তত ৪০ জনের একটি দল তাকে আক্রমণ করে। এই দলে ছিলেন বীরা রেড্ডি ও বিজয় রেড্ডি নামের দুই ব্যক্তি, যারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের অনুসারী বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাবার ওপর হামলা দেখে আলিয়া তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বর্বর হামলাকারীরা তার ওপরও আক্রমণ চালায়। তাকে পাথর ছুড়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষপর্যন্ত তিনি মারা যান।

স্থানীয় মুসলিমরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক আক্রমণ। বিধায়ক কাওসার মহিউদ্দিন বলেছেন, এই হামলা শুধু আলিয়া ও তার বাবার ওপর হয়নি, বরং এটি পুরো মুসলিম সমাজের ওপর আঘাত।

মজলিস বাঁচাও তেহরিক দলের নেতা আমজাদুল্লাহ খান হিন্দুত্ববাদীদের এই বর্বরতা রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার বিচার হাইকোর্টের একজন বিচারকের নেতৃত্বে হওয়া উচিত। সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের জন্য ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, একটি সরকারি চাকরি এবং ইন্দিরাম্মা আবাসন প্রকল্পের অধীনে একটি বাড়ি দিতে হবে।

এদিকে আলিয়ার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মিল্লি কাউন্সিলের সদস্যরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং অভিযুক্তদের জামিন যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারি কৌঁসুলির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রশাসন কি আদৌ অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেবে, নাকি অন্য অনেক ঘটনার মতো এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে?

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ভারতে মুসলিমদের জন্য আর কি কোনো নিরাপত্তা আছে? সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের ওপর সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এই ধরনের সাম্প্রদায়িক আক্রমণ কি ভারতের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে না?

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হবে কিনা, নাকি অন্যান্য ঘটনার মতো এটি ধামাচাপা পড়ে যাবে—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *