গাজার লাখো ফিলিস্তিনি বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল নিম্নচাপের কবলে পড়েছেন। দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। জরাজীর্ণ তাঁবুতে কোনো রকমে দিন পার করছেন এসব শরণার্থী।

বিশেষ করে গাজার উত্তর অংশে, যেখানে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহর অবস্থিত, সেখানকার মানুষজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঠাঁই নিয়েছেন। কেউ কেউ কাপড় ও নাইলনের তৈরি অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন।

এছাড়া যাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে, তাঁরা রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এবং স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু সেখানে তাঁদের ঠান্ডা ও ঝড়বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার মতো কোনো উপায় নেই।

তীব্র বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিপাতে এই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় গাজায় প্রচণ্ড বাতাস বয়ে গেছে এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি (গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭:৪০ পর্যন্ত)।

তিনি আরও জানান, গৃহহীন মানুষজন নিজেদের তাঁবুগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। দিনের বেলা তাঁরা পাথর ও কাঠ দিয়ে এগুলো শক্ত করে বাঁধতে চেষ্টা করেছেন, যাতে ঝড়ো হাওয়ায় সেগুলো ভেঙে না পড়ে।

এদিকে ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জরুরি ত্রাণ সামগ্রী, শীতবস্ত্র, তাঁবু ও অস্থায়ী ঘরবাড়ির মতো প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এছাড়াও গাজায় জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে শীতের রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মানুষজন উষ্ণতা পাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।

গত মঙ্গলবার হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে। বিশেষ করে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, জ্বালানি ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে তারা।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বসল জানান, গাজার মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লাখো মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাঁরা মৌলিক জীবনযাত্রার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় একের পর এক নিম্নচাপ আঘাত হানছে, যা শরণার্থীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অস্থায়ী তাঁবুতে অথবা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভবনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রবল শীত ও বৃষ্টিতে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ মাসে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ৮৮ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে বাড়িঘর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সেবা খাতের স্থাপনাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *