বর্তমানে গাজা পুরোপুরি হামাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ইসরায়েলের কোন কর্তৃত্ব নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সামরিক বিশ্লেষক ইয়োসি ইয়েহোশুয়া।

গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘আই-২৪ নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হামাস গাজার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, তা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হোক বা অন্যভাবে। আমাদের (ইসরায়েলের) সেখানে কোন ক্ষমতা নেই।’

ইয়েহোশুয়া আরও বলেন, ‘এমনকি গাজায় যুদ্ধবিরতির আওতায় আটক ইসরায়েলিদের মুক্তির প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা, তা নির্ধারণের ক্ষমতাও হামাসের হাতে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের মিশর বা জর্ডানে পাঠানো উচিত। তার দাবি, ইসরায়েলের ১৫ মাসের সামরিক অভিযানের পর গাজায় মানুষের বসবাসের উপযোগী কোন জায়গা বাকি নেই। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মিশর ও জর্ডান।

মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনের যে কারও যে কোনো প্রচেষ্টাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এটি হোক বসতি স্থাপনের মাধ্যমে, ভূমি দখল বা জোরপূর্বক স্থানান্তরের মাধ্যমে—এখানে এ সবই অগ্রহণযোগ্য।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সফাদি বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বিতাড়নের বিরুদ্ধে জর্ডানের অবস্থান চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। এটিকে আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি মনে করি।

এদিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ বলেন, ‘গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তর কিংবা যেকোনো ধরনের জাতিগত নিধনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা স্পষ্টভাবে অবস্থান নিচ্ছি।’

গত সোমবার সকাল থেকে দক্ষিণ ও মধ্য গাজা থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিজ শহর গাজা ও উত্তর গাজায় ফিরে আসতে শুরু করেন। নিজ বাসস্থানে ফিরতে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা নেতসারিম করিডোর ব্যবহার করছেন।তাদের কেউ কেউ পায়ে হেঁটে ফিরছেন রশিদ উপকূলীয় সড়ক দিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ যানবাহনে ফিরছেন পূর্বাঞ্চলীয় সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *