ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির প্রশাসন। ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের দির মিমাস ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার পর সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মেরজাইউন জেলার দির মিমাস গ্রাম এবং দক্ষিণ লিটানি এলাকার আরও কিছু সীমান্তে তাদের বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের পর এই মোতায়েন যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পাঁচ পক্ষের কমিটির সমন্বয়ে করা হয়েছে। এই কমিটিতে লেবানন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউনিফিল) রয়েছে।

জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০৬ সালে লেবাননের ‘হিজবুল্লাহ’ এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্লু লাইন (ইসরায়েলের ২০০০ সালের সেনা প্রত্যাহারের পর নির্ধারিত সীমান্তরেখা) থেকে লিটানি নদী পর্যন্ত এই অঞ্চল গড়ে তোলা হয়। এই এলাকায় কেবল লেবাননের সেনাবাহিনী এবং ইউনিফিল বাহিনী অবস্থান করতে পারে।

বর্তমানে সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ইউনিফিলের সঙ্গে সমন্বয়ে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

রবিবার, হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের হাতে আটক হওয়া লেবাননের বন্দিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে ইসরায়েল তাদের সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা ২৬ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পেয়েছে।

ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর, রবিবার ভোর থেকে লেবাননের মানুষ তাদের গ্রামে ফিরতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে তারা নিজেদের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিল। তবে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালালে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ থামায়। তবে এর আগে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।

বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে লেবাননের সেনাবাহিনী এবং ইউনিফিল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তারা চেষ্টা করছে, যাতে স্থানীয় মানুষ তাদের গ্রামে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *