গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম শহর গোমার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩। সোমবার শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় বিদ্রোহীদের সঙ্গে কঙ্গোর সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ গোমা ছেড়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে বিভিন্ন কারাগারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে কয়েক হাজার কারাবন্দি পালিয়ে যায়।

গোমার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এম২৩ বিদ্রোহীদের কঙ্গোতে তাদের অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানায়। তবে বিদ্রোহীরা সেই আহ্বান উপেক্ষা করে শহরটি দখল করে নেয়।

কঙ্গোর সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া জানিয়েছেন, রুয়ান্ডার সেনাবাহিনী কঙ্গোর সার্বভৌম সীমান্ত লঙ্ঘন করে হত্যাযজ্ঞ চালাতে গোমায় প্রবেশ করেছে। কঙ্গোর সরকার একে রুয়ান্ডার ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘের মতে, এই পরিস্থিতি ২০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে গণ-আতঙ্ক তৈরি করেছে।

গোমা কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পরিবহন কেন্দ্র। এটি খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সোনা, টিন এবং কোল্টানের মতো খনিজ সরবরাহের জন্য শহরটির যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যার পর থেকে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৩০ বছর ধরে সংঘাত চলছে। জাতিগত তুতসি-নেতৃত্বাধীন এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী কঙ্গোর বিশাল খনিজ সম্পদ ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে।

বিদ্রোহীরা কঙ্গোর সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গোমার দখল নেওয়ার দাবি করে তারা। এম২৩ বিদ্রোহীরা গোমার বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং কঙ্গোর সেনাদের শহরের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কঙ্গোর এই অস্থিতিশীলতা প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ১৯৯০-এর দশকে এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে ‘আফ্রিকার বিশ্বযুদ্ধ’ নামে দুটি বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *