দখলদার ইসরায়েলের বাধার কারণে গাজার উত্তরে পৌঁছানো নির্ধারিত ত্রাণবহরের অর্ধেকও পৌঁছাতে পারেনি। রবিবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৮৬১টি ত্রাণবাহী ট্রাক উত্তর গাজায় প্রবেশ করেছে, যা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ১২০০ ট্রাকের তুলনায় অনেক কম।

একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক প্রবেশ করার কথা থাকলেও ইসরায়েলের বাধার কারণে এই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সূত্রটি জানায়, প্রথম দিন জিকিম সীমান্ত দিয়ে মাত্র ৮৪টি ট্রাক প্রবেশ করেছে, তবে কোনো জ্বালানি, গ্যাস বা আশ্রয়ের উপকরণ প্রবেশ করেনি।

এছাড়া, ইরেজ সীমান্ত (বেইত হানুন) বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের কারণে সড়কগুলো অচল হয়ে যাওয়ায় এই সীমান্ত দিয়ে ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় দিনে জিকিম ও বেইত হানুন সীমান্ত দিয়ে মোট ২৫৭টি ট্রাক প্রবেশ করে। এতে ২১৬টি তাঁবু ও ১৩টি প্লাস্টিক শীটের ট্রাক থাকলেও জ্বালানি বা গ্যাসের কোনো সরবরাহ ছিল না।

তৃতীয় দিনে ২৭৯টি ট্রাক প্রবেশ করে। তবে কোনো জ্বালানি, গ্যাস বা আশ্রয়ের জন্য জরুরি উপকরণ আনা হয়নি। বুধবার চতুর্থ দিনে ২৪১টি ট্রাক প্রবেশ করে। তবে মানবিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর এখনও অভাব রয়েছে।

সরকারি সূত্রটি আরও জানায়, উত্তর গাজার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। জ্বালানি ও মৌলিক উপকরণের অভাবে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মানুষদের জন্য জরুরি ত্রাণ সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার গাজার সরকারি তথ্য অফিস জানায়, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল থেকে গাজা ও উত্তরের উদ্দেশে বাসিন্দাদের ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া আগামী রোববার থেকে শুরু হবে। এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ।

তথ্য অফিস জানায়, নাগরিকদের পায়ে হেঁটে পশ্চিমে রশিদ স্ট্রিট দিয়ে এবং গাড়ি নিয়ে পূর্বে সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে গাজা ও উত্তরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

এর আগে, গাজার সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তরে ফিরে আসা লোকজনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পরিবার জরুরি আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তায় ভুগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *