জাতিসংঘ ইসরায়েলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে লেবাননের জাতিসংঘ অন্তর্বর্তী বাহিনী (ইউনিফিল) এবং গোলান মালভূমির জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক বাহিনী (আন্দোফ) নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক উপমহাসচিব জাঁ-পিয়ের ল্যাক্রোয়া জানান, লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও এটি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলের কার্যক্রম

ল্যাক্রোয়া বলেন, লেবানন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ২০০৬ সালে এই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, যা ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধ এবং একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলকে ৬০ দিনের মধ্যে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে। তবে ইসরায়েল সময়সীমার ১০ দিন বাকি থাকা স্বত্তেও লেবাননে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে তারা টানেল, ভবন এবং কৃষিজমি ধ্বংস করেছে। এছাঠা বিমান হামলা চালিয়ে লেবাননের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

ল্যাক্রোয়া আরও বলেন, আমরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে এবং নির্ধারিত সময়সীমার আগেই লেবানন থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে লেবাননে ৪ হাজার ৬৮ জন শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৭০ জন, যাদের মধ্যে বহু শিশু ও নারী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৪ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।

সিরিয়ায় চুক্তি লঙ্ঘন

জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মিশনের উপপ্রধান প্যাট্রিক গুশাট জানান, ইসরায়েল ১৯৭৪ সালের ‘বিচ্ছিন্নতার চুক্তি’ লঙ্ঘন করে গোলান মালভূমির নিরপেক্ষ অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করেছে। তারা সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং কিছু এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে ফেলেছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এবং তাদের গ্রামগুলোতে সামরিক বাধা অপসারণের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন।

জাতিসংঘের সতর্কতা

গুশাট জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই তিনি সকল পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং ১৯৭৪ সালের চুক্তি মেনে চলার জন্য সতর্কতা জারি করেছেন।

জাতিসংঘের এই আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। লেবাননের শান্তি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারা সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *