সুদানের দারফুর অঞ্চলের ফাশের শহরের জমজম শরণার্থী শিবিরে এক ভয়াবহ বোমা হামলায় ঘটনা ঘটেছে। উক্ত বোমা হামলায় ১৬ জন শহিদ এবং ৪২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই হামলা চালিয়েছে আধাসামরিক সন্ত্রাসী সংগঠন ‘র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ)।

ফাশেরের প্রতিরোধ কমিটি (লজান মোকাওমা) এক বিবৃতিতে জানায়, গত শনিবার সন্ত্রাসী আরএসএফ শিবিরটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলাবর্ষণ করেছে। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। কমিটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আহতদের চিকিৎসা সরঞ্জাম, রক্ত এবং ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্য।

এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত আরএসএফের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে ফাশের শহরে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। দারফুরের পাঁচটি রাজ্যের মানবিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এই সংঘাত বন্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে উত্তর সুদানের আম রুয়াবা শহরে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। আম রুয়াবা শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র এবং দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সুদানের সঙ্গে রাজধানী খার্তুম এবং বন্দর নগরী পোর্ট সুদানের সংযোগস্থল।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে জাতিসংঘের মতে ২০,০০০ জনেরও বেশি শহিদ এবং প্রায় ১৪ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণায় এই সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় ১,৩০,০০০ জন হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাশেরের প্রতিরোধ কমিটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে যেন এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসা এবং সহায়তা সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *