মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি জেলে গ্রামে হিংস্র জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৪১ রোহিঙ্গা মুসলিম শহিদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫২ জন, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ)।

বুধবার বিকেলে রাখাইনের রামরি টাউনশিপের কিয়াউক নি মাও গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। সামরিক বিমান থেকে চালানো এই বোমা হামলায় গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ৬০০ বাড়ি পুড়ে যায়। কালো ধোঁয়া আকাশ ঢেকে ফেলে, যা দূর থেকে স্পষ্ট দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হলেও, নতুন করে হামলার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এক বাসিন্দা বলেন, আহতদের সাহায্য করতে অনেকে এগিয়ে আসছেন। তবে আমরা আতঙ্কিত, কারণ যেকোন মুহূর্তে আবার হামলা হতে পারে!

এদিকে সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি। তবে সামরিকপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, গ্রামটি বিদ্রোহীদের পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিয়াউক নি মাও গ্রামে জান্তার এই হামলা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চালানো স্পষ্ট বর্বরতার উদাহরণ।

জান্তা সরকারের নিষ্ঠুর শাসনে আরাকান আর্মির বর্বরতায় রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী চরম সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

গত বছর রাখাইনের যুদ্ধেও রোহিঙ্গারা জান্তা ও আরাকান আর্মি উভয় পক্ষের কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করছে। পাশাপাশি জান্তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা পুরুষদের জোরপূর্বক মিলিশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে গত আগস্টে মংডু থেকে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের ওপর ড্রোন ও গোলাবর্ষণ চালানো হয়। এতে বহু রোহিঙ্গা নিহত হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এ হামলার জন্য সন্ত্রাসী আরাকান আর্মি দায়ী। তবে তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার শাসনে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের এই আচরণের নিন্দা জানালেও, পরিস্থিতি বদলাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *