ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের যৌথ বিমান হামলায় নতুন করে উত্তাল ইয়েমেন। সম্প্রতি রাজধানী সানার সেবেন স্কয়ার এবং হুদাইদার রাস ইসা বন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের ভূগর্ভস্থ সামরিক ঘাঁটি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং ড্রোন স্টোরেজ ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয় সানার সেবেন স্কয়ারে গাজার প্রতি সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশের সময়। আরটি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা একই সঙ্গে উত্তর ইয়েমেনের আমরান প্রদেশেও চালানো হয়।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইসরায়েলি এবং মার্কিন জোটের বিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অভিযান হুথি বিদ্রোহীদের ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। এসব স্থাপনার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে হুথিরা দাবি করেছে, তারা মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার হ্যারি ট্রুম্যান এবং তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। একই সাথে তারা তেলআবিবের ইয়াফায় ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের এই আক্রমণ হুথিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং শক্তিকে দমন করতে পারবে কি না, তা এখনো প্রশ্নসাপেক্ষ। বাব মান্দেব এবং রেড সি অঞ্চলে হুথিদের সক্রিয়তা ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও নড়বড়ে হতে পারে। তবে ইসরায়েল ও হুথিদের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পরিণতি কী দাঁড়াবে, তা সময়ই বলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *