ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে সাংবাদিক মুকেশ চন্দ্রকরের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বছরের প্রথম দিন থেকেই নিখোঁজ থাকা মুকেশের মৃতদেহ গত শনিবার একটি সেপটিক ট্যাঙ্কে পাওয়া যায়। সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুকেশ চন্দ্রকর, যিনি একজন ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক ছিলেন, সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তার এই সাহসী পদক্ষেপে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ জানানো হলে মুকেশের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে বিজাপুর শহরের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, সেপটিক ট্যাঙ্কটি ভারি স্ল্যাব দিয়ে বন্ধ ছিল। মুকেশের শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে মুকেশের দুই আত্মীয় রয়েছেন। প্রধান সন্দেহভাজন একজন ডেভেলপার কোম্পানির মালিক, যিনি মুকেশের আত্মীয় হলেও বর্তমানে পলাতক।

উল্লেখ্য, ভারতে সাংবাদিকদের জন্য দায়িত্ব পালন ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে তিন থেকে চার জন সাংবাদিক তাদের পেশার জন্য জীবন হারান। এর আগে ২০২২ সালে সুভাষ কুমার মাহাতো নামের আরেক সাংবাদিক দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণে খুন হন।

মুকেশ চন্দ্রকরের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং এটি ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাহসী সাংবাদিকতার প্রতি একটি হুমকির প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *