২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্মম-হিংস্র সেনা অভিযানের ছয় বছর পূর্ণ হলো। এই অভিযানে হাজারো রোহিঙ্গা প্রাণ হারায়, শতশত মা-বোন নিজেদের ইজ্জত হারান এবং লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কঠিন জীবনযাপন করছেন। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কোনো বাস্তবসম্মত পথও দেখা যাচ্ছে না।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে ৭ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাস করছেন। তাদের জীবনযাত্রা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আটকে রয়েছে। খাবার, শিক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা খুবই কম। শিবিরগুলোতে সহিংসতা ও নিরাপত্তার অভাবও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের ভেতরে আরও ৬ লাখ রোহিঙ্গা কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। তারা নিজেদের গ্রামেই বন্দি হয়ে আছেন। সেনাবাহিনীর অত্যাচার এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

এদিকে বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করেছে। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি আরও কঠিন। চলাচলের স্বাধীনতা নেই। খাবার ও চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক রোহিঙ্গার জীবনে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ ২০২৩ সালে ৮৭৬ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের আবেদন করেছিল। তবে প্রাপ্ত অর্থ সহায়তার মাত্র অর্ধেক। ফলে খাদ্য সহায়তা কমে গেছে। আগে যেখানে প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে মাসে ১২ ডলার দেওয়া হতো, এখন তা কমে ৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের কারণে অপুষ্টি ও অনাহারে ভোগা রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়ছে।

তবে বাংলাদেশ সরকার মনে করেন, রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন। তবে মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সেনাবাহিনীর সহিংস আচরণের কারণে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সফল হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা দেশে ফিরতে চায়, কিন্তু তারা নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

নিজ দেশে ফিরে নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে রোহিঙ্গারা। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তারা চায়, রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ খোলা হোক।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ ছয় বছরের সংগ্রাম তাদের দুর্দশার গল্প বলে। তবে তারা এখনও আশাবাদী যে, একদিন নিজ দেশে ফিরে তারা তাদের অধিকার এবং সম্মান পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *