গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েল তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি লুকিয়ে রাখছে বলে অভিযোগ করেছেন হামাসের সামরিক কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা। গতকাল সোমবার টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য ইসরায়েল গাজায় তাদের বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করছে।

দখলদারের প্রকৃত অবস্থা

আবু উবাইদা আরও জানান, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের প্রকৃত অবস্থা খুবই নাজুক। সেখানে সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতিনিয়ত বিশেষ বিশেষ অভিযানের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘গণহত্যা এবং জাতিগত নিধনের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনারা নিরীহ বেসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যাতে তাদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যায়।’

তিনি গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বীরত্ব এবং ময়দানে তাদের সফল অভিযানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি একে বিশ্বের সব স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।

আবু উবাইদা জানান, কিছু ইসরায়েলি বন্দির ভাগ্য নির্ভর করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অগ্রগতির উপর। কিছু অঞ্চলে কয়েকশ মিটার এগিয়ে যাওয়া সাপেক্ষে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

আবু উবাইদার এই বিবৃতি এমন সময়ে এসেছে, যখন কাসসাম ব্রিগেড সম্প্রতি নজিরবিহীন এবং জটিল কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে। তুফানুল আকসার ধারাবাহিকতায় কাসসাম ব্রিগেডের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান করা ভবনে প্রবেশ করে তাদের ছুরিকাঘাত করে এবং আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। উত্তর গাজার জাবালিয়া এবং বেইত লাহিয়া এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এক অভিযানে জাবালিয়ায় ৩ জন(!) ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ই অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজার উত্তরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তাদের ৪০ জন সেনা নিহত হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *