অনলাইনে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে রেল সেবা সহজ করতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘সহজ’ নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে রেল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের বিপরীতে ২৫ পয়সা সার্ভিস চার্জ নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনলাইনে টিকিট কিনতে প্রতিটি টিকিটে গ্রাহকের কাছ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে, যার পুরোটাই চলে যাচ্ছে সহজের পকেটে!

রেলওয়ের হিসাবে, বছরে ৫ কোটি টিকিটের মধ্যে ৩.৫ কোটি সরাসরি বিক্রি হয়, আর অনলাইনে বিক্রি হয় প্রায় দেড় কোটি। সহজ এই দুই বছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিটি টিকিটের সার্ভিস চার্জের ২০ টাকার মধ্যে ৪ টাকা যায় বিটিআরসিতে, ৪ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমে, এবং বাকি ১২ টাকা সহজের আয়। কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়, রেল কর্তৃপক্ষ বা মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিগুলো এই অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে কোন তথ্য দিতে পারেনি।

সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি স্নিগ্ধা টিকিটের দাম ৭৪৩ টাকা হলেও, অনলাইনে ভ্যাটসহ ৮৫৫ টাকা ও সার্ভিস চার্জসহ ৮৭৫ টাকা দিতে হয়। অথচ রেলমন্ত্রীর দাবি ছিল, সহজ প্রতি টিকিট থেকে মাত্র ২৫ পয়সা পাবে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তারা একাধিকবার সহজের সঙ্গে চুক্তিপত্র চেয়েও পাননি। রেলওয়ের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, কাউন্টারে টিকিট কাটলে ২৫ পয়সা চার্জ দেওয়া হয়, কিন্তু অনলাইনে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং ও সহজের মাধ্যমে। তবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

পূর্বে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনায় থাকা সিএনএস প্রতিষ্ঠানকেও টিকিট বিক্রির জন্য সমালোচনা করা হয়েছিল। তারা প্রতিমাসে রেলকে জমা দিত ১০ কোটি টাকা, কিন্তু অতিরিক্ত চার্জ হিসেবে হাতিয়ে নিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালে তাদের বাদ দিয়ে সহজকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‘সহজ’ তাদের টিকিট বিক্রি থেকে মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিগুলোর চার্জের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। রেলের কর্মকর্তাদের কাছেও এই বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের এই ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় রেলের সেবার মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *