দেশের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ’ থেকে একজন প্রাক্তন ছাত্রের ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ছাত্র তাবলীগ জামাতের বিতর্কিত অংশ, যা এতা’আতী বা নিজামুদ্দীনের সা’দপন্থী নামে পরিচিত, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভ্রান্তিকর কার্যকলাপে জড়িত হয়েছেন।

জানা গেছে, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মুয়াজ বিন নূর ২০১০ সালে (১৪৩১ হিজরী) জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ থেকে তাকমীল জামাত অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাকে তাবলীগ জামাতের বিতর্কিত অংশের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। এই অংশটি আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামা’আহ্ এবং উলামায়ে দেওবন্দের মত ও পথ থেকে বিচ্যুত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কার্যক্রম ইসলামি শিক্ষা এবং উলামায়ে কেরামের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

জামিয়ার পক্ষ থেকে এক জরুরি ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি ছাত্র ও শিক্ষককে আহলুস্ সুন্নাহ্ ওয়াল জামা’আহ্-এর আকিদা-বিশ্বাস ও উলামায়ে দেওবন্দের মতাদর্শের পূর্ণ অনুসারী হতে হয়। কিন্তু মুয়াজ বিন নূরের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ এই নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

জামিয়ার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম স্বাক্ষরিত এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘আসাতিযায়ে কেরামের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুয়াজ বিন নূরের ছাত্রত্ব এবং সনদ বাতিল করা হয়েছে। অদ্য হতে তিনি কোনো ক্ষেত্রেই জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের পরিচয় দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন না।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাবলীগ জামাতের এ বিভ্রান্তিকর অংশের কার্যকলাপ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর। এদের মধ্যে উগ্রতা ও নৃশংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য।

এই সিদ্ধান্ত ইসলামি শিক্ষার ঐতিহ্য ও উলামায়ে দেওবন্দের নীতিকে সমুন্নত রাখতে জামিয়ার দৃঢ় অবস্থানকে পুনরায় প্রমাণিত করেছে। তবে এ বিষয়ে মুয়াজ বিন নূরের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *