ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দখলদার ইসরায়েলের তেলআবিব শহরে ছুঁড়েছে বলে দাবি করেছে। হুথিদের সামরিক প্রচার কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা গেছে। এ দৃশ্য সম্প্রচার করেছে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত ‘আল মাসিরা’ চ্যানেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যালেস্টাইন-২ মডেলের দুটি অতিসংগতিশীল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জাফার দখলকৃত অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দুটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার, দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে যে, তারা ১৪টি যুদ্ধবিমান দিয়ে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাঁচটি লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করেছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইসরায়েলের এই আক্রমণ রাজধানী সানআ ও লোহিত সাগর তীরবর্তী হুদাইদা প্রদেশের সমুদ্রবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। হামলায় ৯ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। হুথিদের দাবি হলো, ইসরায়েলের গাজায় হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী। নিখোঁজ রয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি গাজার জনগণ ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, যা বিশ্বে অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *