দখলদার ইসরায়েলের বাহিনী গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত করতে ব্যবহার করছে ড্রোন ও বিস্ফোরক রোবট। এই অমানবিক পদ্ধতিতে ফিলিস্তিনি জনগণ হারাচ্ছেন তাদের ঘরবাড়ি, আর মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন লাখো মানুষ!

অমানবিক ড্রোন হামলা

আদেল আবদুর রহমান সালেহ জানান, তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় তাঁর মেয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই বাড়িটিই ছিল তাঁদের শেষ আশ্রয়। এরপর তাঁরা পালিয়ে আশ্রয় নেন গাজার আবু তামাম স্কুলে, যা এখন শরণার্থীদের জন্য একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে রূপান্তরিত হয়েছে।

কিন্তু সেখানেও তাঁদের স্বস্তি মেলেনি। স্কুলে পৌঁছার পরপরই ড্রোনগুলো তাঁদের ওপর ঘুরতে থাকে এবং মাইক ব্যবহার করে এলাকা ছেড়ে দক্ষিণের সালাহউদ্দিন সড়কের দিকে যেতে নির্দেশ দেয়।

গত ৫ই অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার উত্তরাঞ্চলে নজিরবিহীন বোমা হামলা শুরু করে। পরদিনই তারা স্থল অভিযানে নামে। দখলদার বাহিনীর দাবি, হামাসকে শক্তি পুনরুদ্ধার করা থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

চোখের পলকে ধ্বংসস্তুপ

ইসরায়েলের সামরিক রোবট এবং ড্রোনের তাণ্ডব ফিলিস্তিনিদের জীবনে এনে দিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়। গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় আল ইয়ারমুক স্টেডিয়াম, যা এখন শরণার্থীদের শিবিরে পরিণত হয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা আদেল বলেন, ইসরায়েলি রোবটগুলো একেকটি এলাকায় ঢুকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। চোখের পলকে বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ড্রোনগুলো রাস্তায় চলাচলকারী যে কাউকে গুলি করে। এমনকি ঘরের ভেতরেও মানুষ নিরাপদ নয়। গুলিতে অনেকের হাত-পা উড়ে গেছে, মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে।

বাইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া এক নারী আসমা সোবহি, বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এখানেই মরে যাব, কিন্তু গোলাগুলি আমাদের কোথাও আশ্রয় নিতে দেয়নি! স্কুলগুলোতেও আমরা নিরাপদ নই!

তিনি বলেন, আমাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়, কেউ রাস্তায় হাঁটলেও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। আমার চোখের সামনেই ছোট একটি বিস্ফোরক রোবট বিস্ফোরিত হয়ে আমাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হত্যা করে।

ফিলিস্তিনিদের ঘরছাড়া করার পাশাপাশি বর্বর ইসরায়েলি বাহিনী তাদের কোন জিনিসপত্র নিতে দিচ্ছে না, যার ফলে শরণার্থীদের জীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

বাইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত এক শিশু রানা ঘুবাইন বলেন, আমাদের বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। পথে সেনারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়! তখন আমরা মারাত্মক ভয়ে সামান্য জিনিসপত্রও ফেলে রেখে পালিয়ে যাই!

মানবিক বিপর্যয় ও দখলদারির চক্রান্ত

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার এলাকাগুলো ফিলিস্তিনি শূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, পানি, ওষুধের অভাব এবং তীব্র শীত শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন করে তুলছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবন ধ্বংস করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *