বিজয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজয় দিবস সম্পর্কে একটি পোস্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেছে। আজ বুধবার ১৮ই ডিসেম্বর প্রকাশিত বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রখ্যাত কূটনীতিক ও প্রাক্তন ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেএন দীক্ষিত তার বই ‘লিবারেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’-এ লিখেছেন, যৌথ বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জেনারেল এম এ জি ওসমানির অনুপস্থিতি ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের একটি বড় রাজনৈতিক ভুল ছিল।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, জেনারেল ওসমানির উপস্থিতি নিশ্চিত না করার কারণ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার হেলিকপ্টার ভুল পথে পাঠানোর মতো ঘটনাগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষের জন্ম দেয়। ওসমানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে আত্মসমর্পণের ওই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশকেও সমানভাবে মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হতো এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সূচনালগ্নে অনেক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যেত।

এদিকে নরেন্দ্র মোদি বিজয় দিবসে তার সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে শুধুমাত্র ভারতীয় সেনাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে তুলে ধরেন। তিনি একাত্তরের বিজয়কে ভারতের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উক্ত পোস্টে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। এই মন্তব্য বাংলাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ১৯৭১ সালের গৌরবময় বিজয় উদযাপন করি। এই বিজয় শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতার নয়, সত্য এবং ন্যায়বিচারের বিজয়। আমরা সঠিক ইতিহাস ও গর্বিত উত্তরাধিকার তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *