ভারতে চিকিৎসা ব্যবস্থার মারাত্মক ত্রুটি সামনে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, মানুষের চিকিৎসার লাইসেন্স ব্যবহার করে পশু চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে দ্রুত জবাব চেয়েছে হাইকোর্ট।

এক বেসরকারি পশু ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসার ফলে একটি পোষ্য বিড়ালের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যে বেশিরভাগ বেসরকারি পশু ক্লিনিক লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক দাবি করে, তারা ‘ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী লাইসেন্স পেয়েছে। তবে এই আইন মূলত মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রযোজ্য। বিষয়টি শুনে বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিচারকগণ প্রশ্ন তোলেন, মানুষের চিকিৎসার জন্য তৈরি একটি আইনের আওতায় কীভাবে পশু চিকিৎসার লাইসেন্স দেওয়া হলো?

উল্লেখ্য, ভারতের চিকিৎসা খাতে এই ত্রুটি শুধু পশু চিকিৎসার ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিক ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকে প্রকাশ করে। একটি লাইসেন্সে একই সাথে মানুষ এবং পশুর চিকিৎসা পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ চিকিৎসা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসনের অভাবকে স্পষ্ট করে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এ ধরনের অনিয়মের দ্রুত সমাধান দাবি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার পর ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট এবং পশু চিকিৎসার জন্য পৃথক আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চিকিৎসা খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *