২০২৪ সালটি মিশরীয়দের জন্য নানা সংকট, চ্যালেঞ্জ এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। অলিম্পিক থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংকট, ওষুধের অভাব এবং রাজনৈতিক বিতর্ক—সবকিছুই এই বছরের জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মিশরের নাগরিকদের জন্য এটি ছিল এক ভিন্ন সময়, যেখানে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিতর্ক তাদের নানাভাবে প্রভাবিত করেছে।

প্যারিস অলিম্পিক

প্যারিস অলিম্পিকে মিশরীয় দলের জন্য বছরটি ছিল হতাশাজনক। ১.২৫ বিলিয়ন মিশরীয় পাউন্ড বাজেট থাকা সত্ত্বেও দলটি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়। সাইক্লিং খেলোয়াড় শহদ সাইয়েদসহ খেলোয়াড়ের উপর হামলার জন্য নিষিদ্ধ হন। শুটিং প্রতিযোগিতায় জেনা আলি ৬৪ জনের মধ্যে ৬৩তম স্থান অর্জন করেন। বক্সার ইয়ুমনা আয়াদ মাত্র ৭০০ গ্রাম ওজন বেশি থাকার কারণে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। এছাড়াও ফুটবল দলের যাত্রায় বিলম্ব ঘটে, যা সমালোচনার সৃষ্টি করে।

হজে নিবন্ধন জটিলতা

এ বছরের হজে নিবন্ধন না পাওয়া হাজিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন মিশরীয়। হজের মৌসুমে তীব্র গরমে হাজিদের প্রায় ১০০০ জন মারা যান, যার মধ্যে ৬৫৮ জন ছিলেন মিশরীয়। এর মধ্যেই হাজিদের দুর্দশা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করায় আইনজীবী ইসলাম সোবহিকে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সৌদি প্রশাসন গ্রেপ্তার করে!

বিদ্যুত সংকট

বিদ্যুৎ সংকট এ বছর মিশরীয়দের জন্য একটি বড় সমস্যা ছিল। প্রেসিডেন্ট সিসি জনগণকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অথবা দাম বৃদ্ধির মধ্যে একটি বেছে নিতে বলেন। কিন্তু বাস্তবে এই বছর মানুষকে দুই সমস্যারই মুখোমুখি হতে হয়। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের লোডশেডিং জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

পাশাপাশি বিদ্যুতের দামও বেড়ে যায়। গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং দখলদার ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের কারণে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। এর ফলে লিফট বিভ্রাটে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলাকালে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ওষুধ সংকট

২০২৪ সালে মিশরের ওষুধের বাজারেও বড় সংকট দেখা দেয়। মিশরের বাজার থেকে প্রায় ১০০০ প্রয়োজনীয় ওষুধ বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়, যার মধ্যে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ এবং স্নায়ুবিক রোগের ওষুধও অন্তর্ভুক্ত। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন ফার্মেসির সামনে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করে। ওষুধ কোম্পানিগুলো মূল্য বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য আরও কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। এর পেছনে মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং বন্দরে কাঁচা মাল আটকে থাকার মতো কারণগুলো দায়ী ছিল।

বিতর্কিত মন্ত্রীসভা

২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট সিসি প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবওলিকে বহাল রেখে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা পরিবর্তন করেন। এই পরিবর্তনের পর নতুন মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে জাল ডক্টরেট ডিগ্রি পেশ করার অভিযোগ ওঠে। সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রীকে ২০১৫ সালে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু এবার তাকে পুনর্বহাল করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জার্মানিতে দূতাবাসের গাড়ি নিজের নামে নিবন্ধন করা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল, যা তিনি স্বীকারও করেন!

২০২৪ সালটি মিশরীয়দের জন্য চ্যালেঞ্জে ভরা এক বছর হিসেবে রয়ে যাবে। নানা সংকট এবং অসন্তোষের মধ্য দিয়ে কাটলেও এই বছর দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার গভীর প্রভাব ফুটিয়ে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *