শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর দুটি পৃথক বিমান হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ২০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। গাজার শহর শুজায়িয়া ও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে এই হামলা চালানো হয়।

গাজা শহরের শুজায়িয়া এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় ১০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন।এর মধ্যে এজন শিশুও রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলাটি রজব পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। এদিকে, খান ইউনিস শহরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলায় ১০ জন শহিদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকারী সংগঠন ‘সেন্ট্রাল কিচেন ওয়ার্ল্ডে’র কর্মী।

ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স বাহিনী জানিয়েছে, শুজায়িয়া এলাকায় এক হামলায় তাদের এক সদস্যও শহীদ হয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত সিভিল ডিফেন্স সদস্যের সংখ্যা বেড়ে ৮৮ জনে পৌঁছেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী ৫ অক্টোবর থেকে গাজার উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, হামলার উদ্দেশ্য হলো হামাসের শক্তি পুনরুদ্ধার ঠেকানো। তবে ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, ইসরায়েল উত্তর গাজাকে দখল করে একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা তৈরি করতে চায়।

এদিকে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ ও আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাজায় ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *