সিরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী শনিবার হামা শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর আগে তারা ইদলিব প্রদেশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং আলেপ্পো শহরের বড় অংশ দখল করতে সক্ষম হয়ে।

আনাদোলু সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ইদলিব প্রদেশের খান শাইখুন শহর দখলের পর বিরোধী বাহিনী হামার গ্রাম ও শহরতলির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে আসা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাইবাত আল-ইমাম, কাফর জেইতা, কাফরনবুদা, হালফায়া, আল-লাতামিনা, সোরান, কালাত আল-মাদিক, কারনাজ, মা’আরদাস, আল-হামামিয়াত এবং তরমালা। এসব এলাকা হামা প্রদেশের উত্তর অংশে অবস্থিত।

এছাড়া তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুরেক এলাকাও দখল করেছে— যা ‘এম-৫’ আন্তর্জাতিক সড়কে অবস্থিত। এই সড়কটি আলেপ্পো এবং রাজধানী দামেস্কের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত।

এরপর বিদ্রোহীরা জাবাল জিন আল-আবিদিন এলাকায়ও প্রবেশ করে। এই এলাকা হামা শহরের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে।

সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে ২৭ নভেম্বর থেকে স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী এবং স্বৈরাচার বাশার আল-আসাদের সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। বিদ্রোহীরা দ্রুত পশ্চিমাঞ্চল অতিক্রম করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করে।

শুক্রবার বিকেলে তারা আলেপ্পো শহরে প্রবেশ করে এবং রাতে শহরের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বিদ্রোহীরা শহরের কেন্দ্রে সাদুল্লাহ আল-জাবরি স্কয়ার, গভর্নর ভবন, পুলিশ সদর দপ্তর এবং আলেপ্পোর ঐতিহাসিক দুর্গ দখল করে।

শনিবার বিদ্রোহীরা ইদলিব প্রদেশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা শহরতলির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও দখল করে, যার মধ্যে মা’আরাত আল-নুমান এবং খান শাইখুন শহর উল্লেখযোগ্য।

সিরিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে—এতে অঞ্চলটিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *