ঢাকার মাতুয়াইলে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও সহিংসতায় ৫০-৬০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনাটি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈতিক অবক্ষয়ের গভীর চিত্র তুলে ধরেছে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ভুল চিকিৎসায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ থেকে। মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভাঙচুর চালালে, পাল্টা আক্রমণে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোল্লা কলেজে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরি, অফিস, নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র ধ্বংস করা হয়। এমনকি, জরুরি কাগজপত্র ও কম্পিউটার লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

মোল্লা কলেজের অধ্যক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকা। সংঘর্ষের সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল, যা শহরের পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য ও নৈতিক শিক্ষার অভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেখানে শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত সুকুমারবৃত্তি ও মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করা, সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রূপ নিচ্ছে সহিংসতার মঞ্চে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফটকে লেখা থাকে, “শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে যাও”, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শিক্ষার উদ্দেশ্য হিসেবে কেবল ক্যারিয়ার, উচ্চ বেতন, কিংবা সামাজিক প্রতিপত্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে।

এই অবক্ষয়ের সমাধানে প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সমাজসেবার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

নসিম হিজাজির বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করেই বলা যায়, “কুদরত কোনো জাতির সম্মিলিত অপরাধ ক্ষমা করে না।” তাই সময় এসেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সংশোধনের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ পথে পরিচালিত করার। নইলে আজকের এই তাণ্ডব একদিন পুরো জাতির ভবিষ্যত ধ্বংস করে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *