ভারতের ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাংলাদেশি তরুণীদের দিয়ে যৌনব্যবসা চালাচ্ছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৩ জন তরুণীকে উদ্ধার করেছে, যারা মানবপাচারের শিকার হয়ে সেখানে অবৈধ কার্যক্রমে বাধ্য হচ্ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওড়িশাটিভি জানায়, এসব তরুণীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ভুবনেশ্বরে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদেরকে দৈনিক ২ হাজার রুপি বেতনের কাজের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তারা শোষণ ও অপমানের শিকার হন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, যৌনব্যবসার সঙ্গে জড়িত দালালরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খদ্দেরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং নির্দিষ্ট তরুণীর ছবি পাঠিয়ে তাদের বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। খদ্দেরদের আগে অর্থ পরিশোধ করতে হয়, এরপর হোটেলে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে তরুণীকে পাঠানো হয়।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী জানান, তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমি এখানে আটকা পড়ে গেছি এবং পুরো চক্রটি একটি সংঘবদ্ধ অপারেশন পরিচালনা করছে।’

এদিকে, কোটাক শহরের লিংক রোড এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্তে নামে। পরে তারা বুঝতে পারে এই চক্রের পরিধি আরো বিস্তৃত । পুলিশের ধারণা, এই তরুণীদের কয়েক বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাদের ব্যবহৃত দালালদের শনাক্ত করার জন্য অভিযান চলছে।

ভুবনেশ্বরের ডিসিপি পিনাক মিশ্রা জানিয়েছেন, আমরা এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং যারা এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ বর্তমানে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে, যাতে এই ধরনের মানবপাচারের ঘটনা ভবিষ্যতে রোধ করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *