ত্রান ও উদ্ধারের পর বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পুনর্বাসনেও এগিয়ে এলো আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। প্রাথমিক ত্রাণ কার্যক্রম শেষে, এবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ আহমদউল্লাহ গতকাল ফেনীতে পুনর্বাসনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যেখানে দুটি নতুন ঘর ও ৪০টি অটোরিকশা উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই প্রকল্পের অধীনে ৪২ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১০ হাজার গরিব ও অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের তালিকায় আনা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান দিকগুলো

১. ১৫০০ ঘরের পুনর্নির্মাণ: সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

২. ৮৪০০ জনকে সহায়তা: ঘর মেরামত, ব্যবসা ও কৃষি সহযোগিতার জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন পুনরায় স্বনির্ভর হতে পারবেন।

৩. ১০০টি অটোরিকশা বিতরণ: ১০০ জনকে জীবিকা নির্বাহের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশা দেওয়া হচ্ছে, যার মোট মূল্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এরইমধ্যে, পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ফেনীতে ৪০টি অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দুর্গত এলাকাগুলোতে বাকি ৬০টি অটোরিকশা বিতরণ করা হবে।

পরিকল্পনার বাস্তবায়ন

পুনর্বাসনে প্রকৃত হকদারকে নিশ্চিত করতে ছবি দেখে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। পরে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিধিদের সরোজমিনে গিয়ে যাচাই ও   সুপারিশের ভিত্তিতে সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন ঘরের মান যাচাই করার জন্য প্রাথমিকভাবে দুটি ঘর তৈরি করা হয়েছে, যা উপযুক্ত প্রমাণিত হলে উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে বাকি ঘরগুলোর কাজ শুরু হবে।

ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঘর মেরামত, ব্যবসা ও কৃষি সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। এর জন্য মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তির ফলে উপকারভোগীরা স্বল্প খরচে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *