শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার ১৩টি উপজেলায় টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই বন্যায় এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শেরপুরে। সেখানে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়িতে ফিরলেও রান্নাবান্না সমস্যা ও ঘরের মাটির অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৭ হাজার হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত এবং ১ হাজার হেক্টর সবজি ক্ষেত বন্যায় নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজারেরও বেশি মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহেও বন্যার পানি কমছে। তবে কিছু এলাকায় পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নেত্রকোনায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, যদিও নদীর পানি কিছুটা কমছে। প্রশাসন ও সেনাবাহিনী বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলী রেজা জানান, তিন জেলায় ৬৩ হাজারের বেশি পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছে। তাদের জন্য ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *