গতকাল ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অপরদিকে একই সময়ে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে ‘বিকল্প উপায়’ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। যার ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল থার্টিন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাল্টা হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, মন্ত্রিসভার কর্মকর্তারা যুদ্ধে ইসরায়েলকে তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে চায় না। তারা একটি বড় অভিযান চালালেও, এর ফলে ভবিষ্যতে আরেকটি সংঘাতের সূত্রপাত যাতে না ঘটে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।

এদিকে হামলার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইসরায়েলের ইরানে প্রতিশোধমূলক আঘাত বা দেশটির তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার আগে বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবা উচিত।

তিনি উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কিন্তু তেল আবিব এখনো ইরানের বিরুদ্ধে কীভাবে জবাব দেবে তা ঠিক করেনি। বাইডেন আরও যোগ করেন, তার প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়াতে ‘অনেক কিছু করছে’ এবং এই মুহূর্তে মিত্র এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশকে একত্রিত করে এই সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা সেরা পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে।

অবশ্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগেই ইরানের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের হামলার পর তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, ‘তেহরান একটি বড় ভুল করেছে এবং এর জন্য তাদের কঠোর মূল্য দিতে হবে।’ অন্যদিকে, ইরান এই হামলার ব্যাপারে সেইসময় জানিয়েছিল, গাজায় অস্ত্রবিরতির সুযোগ দিতে তারা দুই মাস ধৈর্য ধরে ছিল।  এখন ইসরায়েল প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করলে  তাদের কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

মোটকথা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েল বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিলেও, বাইডেনের আহ্বান ইঙ্গিত দেয় এই সংকটের সমাধানে আরও কৌশলী ও কূটনৈতিক পথ খোঁজা হতে পারে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব কীভাবে সমাধান হয়, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *