গত ২৬শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় মুহাম্মদ হুসেইন সারুর নামের হিজবুল্লাহর আরেক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। হামলায় নিহত এই কমান্ডার হিজবুল্লাহর বিমানশক্তি ইউনিটের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিয়ে এই হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় দুই জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মুহাম্মদ হুসেইন সারুরকে হত্যা অভিযানের ফুটেজও প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবী, মুহাম্মদ সারুরকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে তারা।

এছাড়াও হিজবুল্লাহর আরো দুই শীর্ষ নেতার উপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা ইব্রাহিম আকিল নিহত হলেও  হিজবুল্লাহর তৃতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত আলী কারাকিকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয় ইসরায়েল।  

এদিকে একটি বিবৃতিতে শীর্ষ এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে হিজবুল্লাহ। বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, গর্ব ও সম্মানের সাথে আমরা শহিদ মুজাহিদ কমান্ডার মুহাম্মদ হুসেইন সারুর (হাজি আবু সালেহ) এর শাহাদাত ঘোষণা করছি। সারুর ১৯৭৩ সালে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় আইতা আশ শাব এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি লেবাননের পূর্ব সীমান্তে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এবং সিরিয়ার বিভিন্ন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকেই সারুর হিজবুল্লাহর বিমানশক্তি ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি গাজা যুদ্ধেও সারুর লেবাননের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন।

সাম্প্রতিক এক বছর ধরে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা খুবই সহিংস হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত শিশু, নারী এবং চিকিৎসাকর্মীসহ ৭০০ জনেরও বেশি লেবানিজ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন প্রায় ২৬০০ জন। সেইসাথে বাস্তচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *