কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে ভারতের সীমান্তে বিলীন হয়ে যাওয়া প্রায় ২০০ একর জমি ফেরত পেতে যাচ্ছেন জমির মালিকরা। দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এক বৈঠকে বিলীন হওয়া জমির মালিকানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের ক্যাপ্টেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।

গত রবিবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌজন্য বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে পদ্মা নদীর ভাঙনে সৃষ্ট বিবদমান জমি পুনরায় জরিপ করে সঠিক মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের প্রায় ২০০ একর জমি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ৪০ একর জমি রয়েছে। যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের যৌথ জরিপে চিহ্নিত করা হয়েছে। উভয় দেশের সার্ভেয়ার, বিজিবি এবং বিএসএফের উপস্থিতিতে পুনজরিপের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

উল্লেখ্য, পদ্মার ভাঙনের ফলে দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া এলাকায় দুই দেশের সীমানা এলোমেলো হয়ে যায়। যার কারণে দুই দেশের জমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এই সমস্যার সমাধানে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়।

এদিকে বিলীন হওয়া জমি সংক্রান্ত বৈঠকে সীমান্তে নাগরিক হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা বন্ধ এবং মাদক পাচার রোধে কড়া নজরদারি প্রয়োজন। এছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *