আল্লাহ তায়ালা মানব ও জিন জাতিকে একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। ইবাদত হল প্রত্যেক এমন জিনিস, যা আল্লাহ তায়ালা ভালবাসেন এবং প্রত্যেক এমন কথা, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন কাজ, যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। ইবাদত কয়েক প্রকার:

১. অন্তর্জাগতিক ইবাদাত। যেমন:

ক. নিয়ত। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক বিষয় নিয়্ত অনুযায়ীই ধর্তব্য হবে।

খ. তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তিনিই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। মুমিনরা যেন তার উপরই ভরসা করে।’

গ. ইখলাস। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্মরণে রেখ, একনিষ্ঠ আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য।’

২. মৌখিক ইবাদত। যেমন: কালিমার সাক্ষ্য দেওয়া। কুরআন তেলাওয়াত করা। জিকির করা। দুয়া করা। সৎ কাজের আদেশ করা। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যে মন্দ কাজ হতে দেখে, সে যেন হাত দ্বারা তা প্রতিহত করে। হাত দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব না হলে, সে যেন জবান দ্বারা প্রতিহত করে। জবান দ্বারা প্রতিহত করা সম্ভব না হলে, সে যেন অন্তর দ্বারা ঘৃণা করে এবং পরিবর্তন করা নিয়ে ভাবে।

৩. শারীরিক ইবাদাত যেমন: নামাজ, রোজা, জিহাদ, হজ, ইসলামিক শিক্ষা অর্জন।

৪. সম্পদের ইবাদতযেমন: জাকাত, সাদাকাহ, পরিবারের জন্য খরচ, ইত্যাদি।

ইসলামের প্রতিটি ইবাদতই সুন্দর। প্রতিটি ইবাদতের পেছনেই রয়েছে ঐশী প্রজ্ঞা। প্রতিটি ইবাদত রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথ ও পন্থায় বাস্তবায়ন করা গেলে পরকালে রয়েছে অশেষ নেয়ামতে ভরা আরেক জগত। আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *