অচিরেই তিন পার্বত্য জেলা-রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অন্তর্বর্তী পরিষদ পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন পরিষদ গঠন করা হবে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পলায়ন করার  পর সরকারি দায়িত্বে থাকা তিন জেলার চেয়ারম্যান ও সদস্যদেরকে গত ৫ই আগস্ট থেকে আর জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তাদের অনুপস্থিতির কারণে পরিষদগুলোর কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অংসুই প্রু চৌধুরী। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম কাগজপত্রে থাকলেও, তাদের অনুপুস্থিতিতে পরিষদের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর কার্যক্রম গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দল মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুযায়ী পৃথক ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচন বিধিমালা তৈরির কথা ছিল, তবে তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

১৯৮৯ সালে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হয়েছিল স্থানীয় সরকার পরিষদ। তবে সেই পরিষদগুলোর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে একবার নির্বাচন হলেও পরবর্তীতে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৯৭ সালের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’র পর নাম পরিবর্তন করে পার্বত্য জেলা পরিষদ করা হয়। এবং তৎকালীন সরকার অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করে পরিষদ পরিচালনা করতে থাকে। তবে নির্বাচনের অভাবে এই পরিষদগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ানের মতে, দ্রুত চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করে পরিষদের কার্যক্রম সচল করা জরুরি। তবে তিনি মনে করেন, নতুন সদস্যরা অবশ্যই নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পরিষদের কার্যক্রম বর্তমানে সীমিত রয়েছে। এবং আর্থিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব কংকন চাকমা নিশ্চিত করেছেন, খুব শিগগিরই অন্তর্বর্তী পরিষদ পুনর্গঠন করা হবে। যা পরিষদগুলোর কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *