দীর্ঘ ১৫ মাস পর নিজেদের ঘরে ফিরছেন বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি। সোমবার সকালে গাজার রাশিদ পশ্চিম সড়ক ধরে নেটজারিম পশ্চিম চেকপয়েন্ট পেরিয়ে পায়ে হেঁটে তাঁরা গাজা শহর ও উত্তর গাজার দিকে যাত্রা শুরু করেন।

ইসরায়েলের টানা দখলদারিত্ব ও গণহত্যার শিকার এই ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধবিরতির চুক্তির আওতায় ঘরে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই যাত্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে তাঁদের ফিরে যাওয়ার দৃশ্য নজর কাড়ে।

তবে আজ সকাল ৯টার পর থেকে ফিরে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। তখন আর পায়ে হেঁটে যাওয়া যাবে না।

এর আগে, গতকাল রবিবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, তেল আবিব ও হামাসের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ছয় ইসরায়েলি বন্দির মুক্তির শর্তে উত্তর গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বন্দিদের মধ্যে আর্চেল ইয়াহুদও রয়েছেন।

এ বিষয়ে কাতারও রবিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানায় যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় এই সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস শুক্রবারের মধ্যে আর্চেল ইয়াহুদসহ দুই বন্দিকে এবং শনিবার আরও তিন বন্দিকে মুক্তি দেবে।

উত্তর গাজায় ফিলিস্তিনিদের এই ঘরে ফেরাকে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে হামাস।

সোমবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে আসা আমাদের জনগণের দৃঢ়তার প্রমাণ। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির মধ্যেও তাঁদের এই প্রত্যাবর্তন ইসরায়েলের পুনর্বাসন পরিকল্পনার ব্যর্থতা ও পরাজয়ের উদাহরণ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *