ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে বলেছে, মসজিদে মাইক ব্যবহারের অধিকার মৌলিক অধিকার নয়। আদালত জানায়, ধর্মীয় স্থানগুলো মূলত প্রার্থনার জন্য নির্ধারিত, তবে মাইক ব্যবহারের কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের অসুবিধা হলে তা রোধ করতে হবে।

এই রায় এসেছে মুকতিয়ার আহমদ নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে। তিনি মসজিদে মাইক স্থাপনের অনুমতির জন্য রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আদালত তার আবেদন খারিজ করে বলেন, মুকতিয়ার আহমদ মসজিদের মোতাওয়াল্লি নন এবং তার মসজিদের ওপর কোনো মালিকানা অধিকার নেই।

বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্র ও বিচারপতি দোনাদি রমেশের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, মাইক ব্যবহারের মতো বিষয় ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ নয়। আদালত আরও উল্লেখ করে, এটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না এবং ধর্মীয় চর্চার জন্য মাইক অপরিহার্য নয়।

এর আগে বম্বে হাইকোর্টও মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। বিচারপতি এ.এস. গাডকারি ও বিচারপতি এস.সি. চান্দকের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ শব্দদূষণ রোধে কঠোর নির্দেশ দেয়। আদালত শব্দদূষণকে একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাউন্ড সিস্টেমে ডেসিবেল সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দেয়।

এদিকে ২০২২ সালের মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক রায়ে বলেছিল, মসজিদে মাইক ব্যবহারের অনুমতি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না। বদাউন জেলার ইরফান নামের এক ব্যক্তি তার মসজিদে মাইক ব্যবহারের অনুমতির আবেদন করলে আদালত খারিজ করে।

হাইকোর্টের এই ধারাবাহিক রায়গুলো মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রার্থনার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হলেও মাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি চাপানো মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

মুসলিম নেতারা বলছেন, মাইক ব্যবহারের মাধ্যমে নামাজের জন্য আহ্বান অর্থাৎ আযান দেওয়া শুধু একটি প্রথা নয়, বরং এটি মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা বলছেন, মাইক ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করা ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার শামিল।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জনস্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ও আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুসলিম নেতারা বলেন, সমস্যার সমাধানে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। প্রার্থনা ও আযান একটি পবিত্র বিষয়, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের চেতনাকে ঐক্যবদ্ধ রাখে।

উল্লেখ্য, ভারতে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও রীতিনীতিতে মাইক সহ সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার নিয়ে সমাজ থেকে আদালত সবক্ষেত্রেই শব্দ দূষণ আইন লঙ্ঘনের ব্যাপারে তেমন কোনো কথাবার্তা না হলেও মুসলিমদের বেলায় সকলেই সরব। এটি ভারতীয় অগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কর্তৃক মুসলিমদের প্রতি স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *