কেরালার পাঠানামথিট্টা জেলায় এক দলিত তরুণী অভিযোগ করেছেন গত পাঁচ বছরে ৬২ জন তাকে যৌন নির্যাতন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং শুক্রবার ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী জানান, ১৩ বছর বয়স থেকে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তিনি অভিযুক্তদের নাম ও যোগাযোগের নম্বর তার বাবার মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করেছিলেন, যা পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে, যখন কুদুম্বশ্রী নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক কর্মী বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। তরুণীর বক্তব্য শোনার পর স্বেচ্ছাসেবীরা বিষয়টি জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটি (CWC)-কে জানান।

পাঠানামথিট্টা জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট এন রাজীব জানান, তরুণীর পরিবার এতদিন তার ওপর চলা নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না।

তদন্তে জানা গেছে, তরুণী একজন ক্রীড়াবিদ। তাকে যৌন নির্যাতন করেছে তার কোচ, সহপাঠী এবং প্রতিবেশীরা। তার কলোনির এক বাসিন্দা প্রথম তাকে নির্যাতন করে এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।

ভারতের মতো একটি রাষ্ট্রে, যেখানে নারীদের সম্মান ও সুরক্ষার কথা বারবার উচ্চারিত হয়, বাস্তবতা প্রায়ই তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। পাঠানামথিট্টার এই মর্মান্তিক ঘটনা কেবল একজন তরুণীর নয়, বরং সেই হাজারও নারীর গল্প, যারা প্রতিদিন ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কেউ নিজের পরিবার বা আত্মীয়দের দ্বারা, কেউ আবার প্রতিবেশী বা পরিচিতদের হাতে নিগৃহীত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *