সিরিয়ায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেয়ার পেডারসেন। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে ভিডিও বার্তায় তিনি এ উদ্বেগ জানান।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পেডারসেন বলেন, ‘১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত অবকাশ চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা, বিশেষ করে নিরপেক্ষ অঞ্চলের বাইরের কার্যক্রম আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।’

গত ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর ইসরায়েল বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন করে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পেডারসেন।

ইসরায়েল সম্প্রতি ১৯৭৪ সালের অবকাশ চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে গোলান মালভূমির নিরপেক্ষ অঞ্চলে তাদের সেনা মোতায়েন করেছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আরব দেশ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

পেডারসেন সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশটির সামনে বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে, তবে একই সঙ্গে গুরুতর ঝুঁকিও রয়েছে।’ তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে পরিচালনার ওপর জোর দেন।

নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং দ্রুত অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার জানান, সিরিয়ার ১৩ মিলিয়ন মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের জন্য মৌলিক পরিষেবা পুনরুদ্ধার যেমন স্বাস্থ্য, পানি এবং বিদ্যুৎ পুনর্গঠন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ অর্থের অভাবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গত দুই বছরে দেশটিতে খাদ্য সহায়তা ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ফ্লেচার আরও জানান, সিরিয়ায় সংঘর্ষের কারণে এখনো লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত। গত কয়েক মাসে ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এছাড়া তিনি জানান, জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলো সিরিয়ার আলেপ্পো, ইদলিব, হামা ও লাটাকিয়ায় অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের ১০০টিরও বেশি স্থান চিহ্নিত করেছে। এগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *