ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে এসে ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের অস্ত্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র প্রদানের পরিকল্পনা করেছেন। এই প্রস্তাব শুক্রবার কংগ্রেসের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

নতুন এই প্যাকেজে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার-বিধ্বংসী গোলা, বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ছোট ব্যাসের বোমা ও ওয়ারহেডসহ আরও বেশ কিছু সরঞ্জাম রয়েছে। দেশটির এক কর্মকর্তা জানান, এটি বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া শেষ বড় ধরনের সামরিক সহায়তা হতে পারে। তবে চুক্তি কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাইডেন সব সময়ই বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে ইসরায়েলের। তবে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোন মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা নতুন কিছু নয়। গত আগস্টেই বাইডেন প্রশাসন ২০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলকে দেওয়ার অনুমোদন দেয়। এর পেছনে যুক্তি ছিল, হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে শক্তিশালী করা।

তবে এই সহায়তার সমালোচনা করছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থন গাজার মানবিক সংকট আরও বাড়াবে। গত ১৫ মাসে ইসরাইলের হামলায় গাজায় অন্তত ৪৫ হাজার মানুষ শহিদ হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২৩ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটছে তাদের।

গাজায় চলমান সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ওয়াশিংটনের ভেটো দেওয়ার বিষয়টিও বারবার আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে। তবে শুক্রবার থেকে নতুন করে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর ও বাইরে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করলেই কেবল গাজায় সহিংসতা কমানো সম্ভব। তবে বাইডেন প্রশাসন এ নিয়ে নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে।

ক্ষমতার শেষ সময়ে ইসরাইলকে দেওয়া এই নতুন অস্ত্র প্যাকেজ বাইডেনের সিদ্ধান্তকে আরও বিতর্কের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *