গাজার রক্তমাখা মাটি আজও সাক্ষী, যেখানে দখলদারদের নিষ্ঠুরতার মাঝে প্রতিরোধ আর আত্মত্যাগের অনির্বাণ আলো জ্বলছে, সেই আলোর অন্যতম নাম—ডা. হুসাম আবু সাফিয়া। কামাল আদওয়ান হাসপাতালের এই পরিচালক কেবল একজন চিকিৎসক নন, তিনি মানবতার এক জীবন্ত প্রতীক।

ইসরায়েলি হামলার তীব্রতার মাঝেও, তিন মাস ধরে তিনি হাসপাতালে অবস্থান করে আহতদের পাশে ছিলেন। হাসপাতালে থাকার আদেশ উপেক্ষা করে, প্রতিদিন বোমার ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনি সাহায্যের আবেদন জানাতেন সারা বিশ্বের কাছে। তার একটাই লক্ষ্য ছিল—মানুষের সেবা তাদের জীবন রক্ষা করা।

তবে এই যুদ্ধ তার ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত হানে। দখলদার বাহিনী নির্মমভাবে তার ছেলেকে হত্যা করে। তবে তিনি ভেঙে পড়েননি। হাসপাতালের চত্বরে নিজ হাতে সন্তানের দাফন সেরে দাঁড়িয়েছিলেন আরও দৃঢ় মনোবলে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বার্তাটি অনেক বড়, আর তা হলো—এই দেশ সবচেয়ে বড় ত্যাগের দাবি করে।’

তাঁর লড়াই এখানেই থেমে যায়নি। হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেল, আগুনে পুড়ল, বোমার শব্দ শোনা গেল—সবকিছুর মাঝেও তিনি ছিলেন তার রোগীদের পাশে। শেষ পর্যন্ত একসময় তাকে আটক করে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক। ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে চিকিৎসকের পোশাক পরে একা হেঁটে যাওয়া তাঁর দৃশ্যটি স্বাধীনতার প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে যুগ থেকে যুগান্তরে ।

আটকের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘গাজার স্বাধীনতা আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হবে। এই মাটি, এই মানুষ—সবকিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লিপ্ততার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, সন্তান হারানোর ব্যথা যতই গভীর হোক, তা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।

আজ তিনি বন্দি, অজানা কোথাও। তবে তার গল্প থেমে যায়নি। ডা. হুসাম আবু সাফিয়া শুধু একজন চিকিৎসক নন, তিনি হলেন ফিলিস্তিনের অগণিত মানুষের সংগ্রাম ও ত্যাগের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। তার প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করে—স্বাধীনতা অর্জনের এই লড়াই কখনো থামবার না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *