সিরিয়ায় ফ্যাসিস্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ৮৫ হাজার মানুষ লেবাননে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন লেবাননের সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী হেক্টর হাজার। এদের মধ্যে ২০ হাজার রয়েছে লেবানিজ নাগরিক, যারা সিরিয়া থেকে নিজেদের দেশ ফিরেছেন।

মন্ত্রী হাজার আরও জানান, গত ৮ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার সিরিয়ান লেবাননে আশ্রয় নিয়েছে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন কোনো উদ্বাস্তু শিবির তৈরি করার পরিকল্পনা নেই।

লেবাননে ফিরে আসা অধিকাংশ মানুষই শিয়া সম্প্রদায়ের। তারা বর্তমানে বালবেক-হারমেল জেলার মসজিদ, মাদরাসা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো প্রায় ৩০টি গ্রামে ৩০ হাজার লেবানিজ বাস করছে। এর মধ্যে জেইতা, মুতরবা, হাওয়াইক, আস সামাকিয়াত, এবং আল-মাসরিয়াত উল্লেখযোগ্য। লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে কোনো স্পষ্ট সীমানা বা বেড়া না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

মন্ত্রী হাজার বলেন, আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতি সাময়িক। উদ্বাস্তুদের নিজ নিজ গ্রামে ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। আমরা চাই, সিরিয়ানদের জন্য একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে।

তিনি আরও বলেন, লেবানন গত ১৩ বছর ধরে এই সংকটের বোঝা বহন করছে। তাই আমরা সিরিয়ার ভেতরে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় লেবানন থেকে ৪ লাখ সিরিয়ান নিজ দেশে ফিরে যান। তবে বর্তমানে লেবাননে প্রায় ২০ লাখ সিরিয়ান উদ্বাস্তু অবস্থান করছে।

মন্ত্রী হাজার বলেন, আমরা সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। সিরিয়াও চায় না যে আমরা তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি। আমাদের লক্ষ্য উদ্বাস্তু সংকট সমাধান করা।

লেবাননের সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানে কাজ করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নির্ভর করছে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *