শিশুর জন্মের সময়ে করা ছোট ছোট শব্দ—যেমন আনন্দের চিৎকার বা বিস্ময়ের আওয়াজ—শুধু আবেগ প্রকাশ নয়, বরং এগুলো ভাষার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এসব শব্দ এবং শিশুর হৃদস্পন্দনের ওঠানামার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে!

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক জেরেমি এ. বারজোনের নেতৃত্বে চালানো গবেষণায় ১৮ থেকে ২৭ মাস বয়সী ৩৪ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশুদের শব্দ ও হৃদস্পন্দনের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণে গবেষকরা ২,৭০৮টি শব্দ পর্যবেক্ষণ করেন, যা শিশুরা খেলার সময় তাদের যত্ন প্রদানকারীদের সাথে উচ্চারণ করেছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা যদি অধিক সক্রিয় অবস্থায় থাকে তাহলে তাদের শব্দের দৈর্ঘ্য বেশি হয়। অপরদিকে যদি তাদের হৃদস্পন্দন কমে আসে তাহলে ওদের শব্দগুলো অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তিরাও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে। গবেষকরা উল্লেখ করেন, হৃদস্পন্দনের ওঠানামা শব্দ হওয়ার সময়কাল, শব্দের ধরন এবং অর্থ বোঝার সক্ষমতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

জেরেমি এ. বারজোন বলেন, ‘শিশুরা শব্দ তৈরির মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে সমন্বয় শেখে। এই প্রক্রিয়া শুধু কগনিটিভ নয়, বরং এতে শরীরের বিভিন্ন পেশির জটিল সমন্বয় প্রয়োজন, যা হৃদস্পন্দনের ওঠানামার সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।’

গবেষকরা মনে করেন, এই ফলাফল ভাষার বিকাশে শিশুদের শারীরিক ও স্নায়বিক কার্যকলাপের ভূমিকা বোঝাতে সহায়ক হতে পারে। এটি বিশেষ করে শিশুদের কথা বলার সমস্যাগুলোর আগাম চিহ্নিতকরণে সহায়তা করতে পারে।

বারজোন আরও বলেন, ‘শিশুরা বড় হওয়ার সাথে সাথে তাদের অটোনোমাস নার্ভাস সিস্টেম (স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্র) বিকশিত হয়, যা হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর প্রভাব সারাজীবন থেকে যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *