যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, তারা ‘হাইয়াত তাহরির আশ শাম’ সংগঠনের নেতা আহমদ শারহকে ধরতে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা বাতিল করেছে। এর আগে তার গ্রেপ্তার বা বিরূপ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে এই পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট প্রাচ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বারবারা লিভ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সিরিয়ার রাজধানী দামেশকে ‘হাইয়াত তাহরির আশ শাম’ এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি আহমদ শারহকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

বারবারা লিভ বলেন, আমি তাকে (জুলানি) জানিয়ে দিয়েছি, বছরের পর বছর ধরে ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের আওতায় দেওয়া পুরস্কারটি আর অব্যাহত থাকবে না।

এর আগে গতকাল শুক্রবার, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, বারবারা লিভের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল দামেশকে ‘হাইয়াত তাহরির আশ শামে’র নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছে।

সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার

আলোচনার বিষয়ে লিভ বলেন, আহমদ শারহের সঙ্গে বৈঠকে তারা সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথ নিয়ে আলোচনা করেছেন। শারহ বৈঠকে তার অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীভূত। এছাড়াও শারা বৈঠকে প্রাগম্যাটিক এবং বাস্তবধর্মী মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি নারী অধিকার, সুরক্ষা এবং সমাজের সব শ্রেণির জন্য সমান অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত মধ্যপন্থী মত প্রকাশ করেছেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে লিভ বলেন, এটি একটি ভালো বৈঠক ছিল। তবে আমরা কথা নয়, কাজ দেখে সিদ্ধান্ত নেব।

অন্যদিকে ইরানের ভূমিকা প্রসঙ্গে বারবারা লিভ বলেন, ইরান অতীতে সিরিয়ায় বড় ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু দেশটিতে ভবিষ্যতে ইরানের কোন স্থান থাকা উচিত নয়। তিনি আরও জানান, ইরান অন্যায় করেছে। কারণ, তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড, বিদেশি মিলিশিয়া এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে সিরিয়ায় নিয়ে এসেছে।

তুরস্ক প্রসঙ্গ

তুরস্ক প্রসঙ্গে লিভ বলেন, সিরিয়ায় তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রভাব রয়েছে। দেশটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি ‘পিকেকে/ওয়াইপিজি’ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)-এর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন এই বিষয়গুলোতে তুর্কি কর্তৃপক্ষ এবং এসডিএফ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।

লিভ বলেন, আমরা মনে করি, উত্তেজনা কমানোর সেরা উপায় হলো কোবানির (উত্তর সিরিয়ার আইন আল আরব) আশপাশে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং এসডিএফের ভূমিকা নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৩ সালে আহমদ শারহকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে এবং তার সন্ধান দিলে ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *