সিরিয়ায় রুশ সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা প্রত্যাহার করার পর। সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে রাশিয়া দেশটিতে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সিরিয়ায় রুশ সামরিক ঘাঁটি

হমেইমিম ঘাঁটি: রুশ সামরিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু

লাতাকিয়ার উপকণ্ঠে অবস্থিত হমেইমিম ঘাঁটি সিরিয়ায় রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। ২০১৫ সালের আগস্টে বাশার আল-আসাদের সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার এক চুক্তির আওতায় এই ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে মিগ-২৯, সুখোই-২৭, সুখোই-৩৫, ও সুখোই-৫৭ উল্লেখযোগ্য।

২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ঘাঁটি সিরিয়ায় রুশ সামরিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র ছিল। একই সময়ে এটি লিবিয়া ও আফ্রিকায় রাশিয়ার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষত, ভাড়াটে সৈন্য দল ওয়াগনার গ্রুপকে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর ক্ষেত্রেও এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তর্তুস ঘাঁটি: ভূমধ্যসাগরের প্রবেশদ্বার

সিরিয়ার তর্তুস শহরে অবস্থিত রাশিয়ার নৌঘাঁটি তাদের একমাত্র বিদেশি নৌঘাঁটি। ২০১৭ সালে রাশিয়া ও সিরিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যার আওতায় এই ঘাঁটি ৪৯ বছরের জন্য রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে। ঘাঁটিটি ১১টি রুশ যুদ্ধজাহাজ রাখার সক্ষমতা রাখে এবং এখানে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

এটি ভূমধ্যসাগরের সম্পদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য রাশিয়ার একটি কৌশলগত স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কামিশলি ঘাঁটি:

২০১৯ সালে সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে কামিশলি শহরে রাশিয়া একটি হেলিকপ্টার ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। এটি মূলত তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তে টহল পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এ ঘাঁটিতে ২০০ রুশ সেনা মোতায়েন করা হয় এবং তারা তুরস্কের সঙ্গে যৌথ টহল পরিচালনা করে।

সিরিয়া থেকে রুশ সৈন্য প্রত্যাহার

২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে রাশিয়া সিরিয়ার কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে সরঞ্জাম ও সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করে। উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, হমেইমিম ঘাঁটি থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও, রাজধানী দামেস্কসহ বিভিন্ন স্থানে রুশ সেনাদের সংখ্যা কমানো হয়েছে।

এদিকে, সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রশাসন থেকে আশ্বাস পেয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার প্রভাব হ্রাস করতে সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত হিসেবে রুশ ঘাঁটিগুলো বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।√অন্যদিকে, অর্থনৈতিক চাপে থাকা রাশিয়া সিরিয়ার পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এ অবস্থায় সিরিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব টিকিয়ে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *