বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থকদের দীর্ঘ অপেক্ষা অবশেষে ফলপ্রসূ হয়েছে। লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের লাফবারোতে জন্ম নেওয়া হামজা—যিনি আগে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে সাতটি ম্যাচ খেলেছেন—তার মায়ের বাংলাদেশি শিকড়ের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হামজা জানান, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ হয়তো আর নেই। তবে বাংলাদেশের জন্য খেলতে পারাটা আমার কাছে সম্মানের। দেশের মানুষ আমাকে খেলতে দেখার জন্য বহুদিন ধরে অনুরোধ করে আসছে। এখন আমি চাই এই ফুটবল দলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরতে।’

বাংলাদেশ বর্তমানে ফিফার র‌্যাংকিংয়ে ১৮৫তম স্থানে রয়েছে। তবে হামজার লক্ষ্য এই অবস্থান পরিবর্তন করা। লেস্টারের একাডেমি থেকে উঠে আসা ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশ এমন একটি কাঠামো তৈরি করুক যা ভবিষ্যতে ইউরোপের লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি তার ভালোবাসার কথাও জানান হামজা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলকে ভীষণ ভালোবাসে। যদিও ক্রিকেট তাদের সবচেয়ে সফল খেলা, তবে ফুটবল তাদের আবেগ। আমি তাদের জন্য কিছু করতে চাই।’

হামজা তার ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশে নিয়মিত যেতেন। হবিগঞ্জে পরিবারের গ্রামে কাটানো সময় তাকে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে শিখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় বাংলাদেশে যাওয়া আমার জন্য বড় শিক্ষা ছিল। সেখানকার জীবনযাত্রা আমাকে কৃতজ্ঞ থাকতে শিখিয়েছে।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলে হামজার অন্তর্ভুক্তি ইতোমধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং দলের কোচ হাভিয়ার কাবরেরাও তার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বে দল উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী।

হামজার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি ফুটবলের নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তার প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রাপ্ত শিক্ষা বাংলাদেশি ফুটবলের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের ফুটবল জগতে হামজা চৌধুরীর আগমন কেবলই একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি নয়, এটি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। দেশের ফুটবলভক্তরা এখন তার নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *