গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা এবার উন্মুক্ত স্থানে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসের নোটিশ বোর্ডসহ জনবহুল স্থানে এই তালিকা টানানো হবে। উদ্দেশ্য, জনগণকে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিত করতে ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া।

যাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও সনদ বাতিল করা হবে। বন্ধ হবে সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা। এমনকি জাল-জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম তোলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হবে এবং সরকারি সুবিধার অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করলে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী জানিয়েছেন, ওয়েবসাইটে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ চাওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য উন্মুক্ত স্থানে তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে জনবহুল স্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও স্থায়ী ঠিকানা টানানো হবে। অভিযোগ জানাতে স্থানীয় জনগণের জন্য পৃথক ফরমও তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারি ওয়েবসাইট ও মন্ত্রণালয়ে পাওয়া যাবে। এ পর্যন্ত কয়েক শ অভিযোগ জমা পড়লেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় ছয়বার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়, যেখানে মোট গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১,৯৭,৮৫৫। এর মধ্যে ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা ১,৯৬,৪৫৪ জন।

একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে বয়সসীমা নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাড়ে ১২ বছরের কম বয়সী দুই হাজারের বেশি ব্যক্তির সনদ ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। এমনকি ১৯৭১ সালের পর জন্ম নেওয়া মীজানুর রহমানের মতো ব্যক্তিদের নামও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেছেন, এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তালিকাটি ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। নতুন উদ্যোগটি সেই বিভ্রান্তি দূর করার একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *