রাশিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় নৌবহরের অন্তর্গত যুদ্ধজাহাজগুলো সিরিয়ার উপকূল থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নোঙর করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে বিদ্রোহীদের উৎখাতের পর এই জাহাজগুলো রাশিয়ার কৌশলগত নৌ ঘাঁটি টারতুস ছেড়ে অবস্থান নিয়েছে।

প্ল্যানেট ল্যাবসের মাধ্যমে গত ৯ই ডিসেম্বর তোলা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, রাশিয়ার অন্তত তিনটি জাহাজ সিরিয়ার উপকূলে মোতায়েন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ফ্রিগেট এবং একটি তেলবাহী জাহাজ। টারতুসের ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই জাহাজগুলো অবস্থান করছে। তবে নৌবহরের অন্য জাহাজগুলোর অবস্থান চিত্রে তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।

মস্কোতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে রয়টার্সের কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। তবে ব্ল্যাকস্কাই এবং প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ৫ই ডিসেম্বর টারতুস ঘাঁটিতে ছয়টি রাশিয়ান জাহাজ ছিল। কিন্তু ৬ থেকে ৯ই ডিসেম্বরের মধ্যে যুদ্ধজাহাজগুলো নিরাপত্তার কারণে ঘাঁটি ছেড়ে উপকূলে অবস্থান নিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া দীর্ঘদিনের আসাদ সরকারের মিত্র হিসেবে বর্তমানে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে তৎপর। এর মাধ্যমে তারা কৌশলগতভাবে লাতাকিয়ায় বিমানঘাঁটি এবং টারতুসে নৌবহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

টারতুস ঘাঁটির গুরুত্ব

টারতুস ঘাঁটি রাশিয়ার একমাত্র ভূমধ্যসাগরীয় মেরামত ও পুনঃপূরণ কেন্দ্র। এটি রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এবং আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেজিং পোস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রাশিয়ান যুদ্ধ ব্লগার ‘রাইবারের’ আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধজাহাজগুলো নিরাপত্তার কারণে টারতুস ছেড়ে উপকূলে অবস্থান নিয়েছে। নতুন স্যাটেলাইট চিত্র সেই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রাশিয়ার এই সামরিক গতিবিধি সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ঘটনাবলি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর আরও নিবিড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *