গতকাল মঙ্গলবার শাপলা গণহত্যার উপর প্রকাশিত সাড়া জাগানো ম্যাগাজিন চিরায়ত শাপলানামার সম্পাদক খুবাইব মাহমুদকে সাদা পোশাকে কালো গাড়িতে করে পল্টন থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারই জের ধরে আজ বুধবার ৩০শে অক্টোবর বিকেলে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের পূর্ব গেটে প্রেস কনফারেন্স করেন সম্পাদক খুবাইব মাহমুদ।

প্রেস কনফারেন্সে সম্পাদক খুবাইব মাহমুদ বলেন, ‘গতকাল নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে আমি এই ইসলামিক বইমেলায় আসি এবং এখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটাই। এরপর ইসলামিক বইমেলা থেকে রাত সোয়া আটটার দিকে (এক দুই মিনিট কমবেশি হতে পারে।) নিজ ঠিকানা চাষাড়া নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার জন্য মেয়র মোহাম্মাদ হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে আমি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আর ঠিক সেই সময়ে সাদা পোশাকে অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি রাস্তার মধ্যেই বেশ খানিকটা সময় আমার সাথে রহস্যপূর্ণ আচরণ করার পর কোন পূর্ব অভিযোগ ছাড়াই- ‘কালো গ্লাস লাগানো গাড়ীতে’ করে আমাকে পল্টন থানায় তুলে নিয়ে যায়।

এরপর ঘন্টাব্যাপি সেখানে অপরিচিত অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞসাবাদে তারা আমার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততাসহ বিতর্কিত সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সাথে আমার যোগসূত্র প্রমাণে আপ্রাণ অপচেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু শত চেষ্টা করার পরও তারা ব্যর্থ হয় এবং রাত সাড়ে ১২টার পর আমাকে মুচলেকা দিতে বাধ্য করে পল্টন থানা থেকে ছেড়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তা জানতে চাইলে পল্টন থানা পুলিশ আমাকে কোন রকম সাহায্য করেনি। বরং তারা ওইসব ব্যক্তিদের পরিচয় লুকাতে চাচ্ছে, এবং বিভিন্ন সংস্থার কথা বলে নিজেদের দায় এড়াতে চেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমি তাদের কোন পরিচয় জানতে পারিনি। এরপর আজ সকালে আমি বইমেলা প্রাঙ্গনে সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করলে আমাকে সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য হুমকি দেয়া হয়। যা পরিষ্কারভাবে পতিত স্বৈরতন্ত্রের কর্মকাণ্ডের সাথে মিলে যায়। আবু সাইদ, মুগ্ধসহ হাজার শহিদের আত্মত্যাগে অর্জিত নতুন স্বাধীনতায়, নতুন বাংলাদেশে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

প্রেস কনফারেন্সে সম্পাদক খুবাইব মাহমুদ বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি মনে করি পরিবর্তিত বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী স্বৈরাচার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে নিজেদের বের করে আনবে। পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি বলতে চাই, যারা আমাকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় তুলে নিয়ে গেছে, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে অতিসত্ত্বর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সেই সাথে নতুন বাংলাদেশ মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এবং আগামির নির্বাচিত সরকারকেও ভবিষ্যতে নিজস্ব স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে কোন লেখক, প্রকাশক, এ্যাক্টিভিস্টকে যেন এই স্বাধীন বাংলাদেশে কোন প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হতে হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের এই দাবী সরকারকে মানতেই হবে। যদি না মানা হয়, তাহলে আমরা সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।’

উল্লেখ্য, এ সময় প্রেস কনফারেন্সে সম্পাদক খুবাইব মাহমুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবি মুহিম মাহফুজ এবং রাহনুমা প্রকাশনীর প্রকাশক নেসারুদ্দিন আহমেদ রুম্মান। দুজনই সম্পাদক খুবাইব মাহমুদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বক্তব্য প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *